
প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় বিরোধী সদস্য মো. আবুল হাসনাত-এর টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন সম্পন্ন করে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা বহাল থাকবে। শুধু তা-ই নয়, এই পদ্ধতির আওতায় আরও বেশি সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা। দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রযুক্তি-নির্ভর এই নিবন্ধন ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু করেছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অধিক সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ভোটদান প্রক্রিয়া সহজ, কার্যকর এবং অংশগ্রহণমূলক করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার বাস্তবায়ন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিককে জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে। নিবন্ধন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ভোট ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংসদে উপস্থাপিত লিখিত উত্তরে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এই উদ্যোগ আগামী জাতীয় নির্বাচনেও অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনতে নির্বাচন কমিশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।