
ক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাস থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর দেশটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ঘটনার একদিন পর ভারত জানায়, তারা ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক বিবৃতিতে জানায়, ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তার প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানায় ভারত, যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
এমইএ আরও জানায়, কারাকাসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ভেনেজুয়েলায় বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। দেশটিতে অবস্থানরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় বলে জানানো হয়। অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয় এবং দীর্ঘ ১২ বছর ক্ষমতায় থাকা বামপন্থি নেতা নিকোলাস মাদুরোর শাসনের অবসান ঘটে। পরে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে বিচার চলবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মাদুরোর মাথার জন্য পাঁচ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে হাতকড়া ও চোখ বাঁধা অবস্থায় ভেনেজুয়েলার নেতাকে ক্যারিবিয়ান সাগরে একটি মার্কিন নৌজাহাজে দেখা যায়। ট্রাম্প দাবি করেন, ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো এস্টেট থেকে তিনি পুরো অভিযানটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
ভেনেজুয়েলায় এই নাটকীয় পরিবর্তনের পর দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিরোধী জোটের প্রার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান।
তবে মাচাদোর নেতৃত্বের দাবি নাকচ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর পর্যাপ্ত সমর্থন বা সম্মান নেই।
ভেনেজুয়েলার এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা পুরো লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করছে।