
ভেনেজুয়েলায় নাটকীয় পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলম্বিয়া ও কিউবাকে ঘিরে সরকার পতনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিতপূর্ণ এসব মন্তব্য নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কলম্বিয়ায় একজন ‘অসুস্থ ব্যক্তি’ শাসন চালাচ্ছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন সরবরাহ করতে আগ্রহী। ট্রাম্পের দাবি, কলম্বিয়ার বর্তমান সরকার খুব বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মার্কিন কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত বহন করছে এবং এর ফলে অঞ্চলটিতে নতুন ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সাংবাদিকরা যখন ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ভেনেজুয়েলার মতো কলম্বিয়াতেও কি মার্কিন সামরিক অভিযানের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে—তখন তিনি সরাসরি কিছু না বললেও রহস্যজনকভাবে উত্তর দেন, ‘শুনতে ভালোই লাগছে।’ তার এই মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দেয়।
কলম্বিয়ার পাশাপাশি কিউবার ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কিউবা বর্তমানে পতনের মুখে রয়েছে এবং সেখানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে। ট্রাম্পের মতে, কিউবার অর্থনীতির বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভরশীল ছিল, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে। ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কিউবার বর্তমান সরকারের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মার্কিন এলিট বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’ অভিযান চালায় বলে জানানো হয়। অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের সুরক্ষিত ‘সেফ হাউস’ থেকে আটক করে প্রায় ২ হাজার ১০০ মাইল দূরের নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুরে তাদের ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে বলে জানানো হয়।
ভেনেজুয়েলায় এই আকস্মিক ও নাটকীয় পরিবর্তনের পর কলম্বিয়া ও কিউবাকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান আগামী দিনে অঞ্চলটির রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।