
২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সেনা সদস্যদের মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এ ঘটনায় দলটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দিনব্যাপী ওই সামরিক অভিযানে সেনা হতাহতের বিষয়ে সংসদে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি বলে কংগ্রেস অভিযোগ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে মোট ছয়জন ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হন। এর মধ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন।
তবে কংগ্রেসের দাবি, নিহত সেনা সদস্যদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পাশাপাশি তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি দিতেও বিলম্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
এক সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের সেনা সদস্য বিষয়ক বিভাগের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনূমা আচার্য সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
অনূমা আচার্য বলেন, অতীতে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সেনা সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের রীতি অনুসরণ করা হলেও বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করছে। তার দাবি, সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন, যাতে মনে হয়েছে অভিযানে কোনো সেনা সদস্য নিহত হননি। পরবর্তীতে সেই বক্তব্যের পর শাসকদলের সদস্যদের প্রতিক্রিয়াও নিহত সেনা সদস্যদের প্রতি অসম্মানজনক ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোহিত চৌধুরী আরও প্রশ্ন তোলেন, যদি সেনা সদস্যরা সত্যিই নিহত হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে সরকারের ১৩ মাস সময় লাগল কেন। তার মতে, বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট করা সরকারের দায়িত্ব ছিল।
এ ঘটনায় কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তবে সরকার এখন পর্যন্ত কংগ্রেসের এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে