
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সর্বশেষ এসব হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাগুলোকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইউক্রেনের শিল্পনগরী ডনিপ্রোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন।
ডনিপ্রো শহরটি যুদ্ধের সামনের সারি থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এটি রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হয়ে রয়েছে। সর্বশেষ হামলাতেও আবাসিক ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
আঞ্চলিক গভর্নর ওলেক্সান্ডার হানঝা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে। হামলার ফলে বহু ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহতদের অনেকের মাথায় আঘাত, শরীরে শার্পনেলের ক্ষত এবং হাড় ভাঙাসহ বিভিন্ন ধরনের গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপরিজঝিয়া শহরেও পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং এক শিশুসহ আরও ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জাপরিজঝিয়া শহরটি যুদ্ধের সম্মুখসারির প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি ওই অঞ্চলের প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যদিও রাশিয়া পুরো অঞ্চলটির ওপর দাবি করে আসছে, বাস্তবে এখনো পুরো অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ডনিপ্রো ও জাপরিজঝিয়া ছাড়াও একই দিনে ইউক্রেনের আরও কয়েকটি অঞ্চলে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। তবে অন্যান্য এলাকার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকায় দেশটির বিভিন্ন শহর নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। বিশেষ করে সামরিক ও শিল্পাঞ্চলগুলোর পাশাপাশি আবাসিক এলাকাও এসব হামলার প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সর্বশেষ হামলার ঘটনায় আবারও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। নতুন এই হামলার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।