
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম ৩৬৩ দিনে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৫ দশমিক ৩৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৩০ দশমিক ০৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শুধু ২৮ জুন এক দিনেই দেশে এসেছে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধারাবাহিক অর্থ প্রেরণের ইতিবাচক প্রবণতারই প্রতিফলন।
চলতি জুন মাসের হিসাবেও রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২ দশমিক ৫৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগের বছর একই সময়, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুন মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে এসেছিল ২ দশমিক ৫৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফলে জুন মাসের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
চলতি অর্থবছর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার আগেই দেশের মোট রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থপাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভে ধারাবাহিক পতন দেখা দেয়। একই সময়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হারও উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। একসময় যেখানে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল প্রায় ৮৪ টাকা, পরে তা বেড়ে প্রায় ১২০ টাকায় পৌঁছে যায়।
এছাড়া, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় বিপিএম৬ (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে আসে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স অর্জন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।