
জাপানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে ব্রাজিলের সমর্থকদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল নেইমারকে মাঠে দেখা। হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে একপর্যায়ে ‘নেইমার, নেইমার’ ধ্বনিতে গ্যালারি মুখর হয়ে ওঠে। সেই সময় সাইডলাইনে ওয়ার্ম আপও করেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। ফলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, যেকোনো মুহূর্তে তাকে মাঠে নামাবেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নেইমারের পরিবর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। আর সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে মার্টিনেল্লির করা গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ব্রাজিল এবং নিশ্চিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট।
ম্যাচ শেষে নেইমারকে না খেলানোর কারণ ব্যাখ্যা করেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, পরিকল্পনায় অবশ্যই ছিলেন নেইমার। তবে তাকে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, নকআউট পর্বের ম্যাচ হওয়ায় অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখেই তিনি দল সাজিয়েছিলেন। তাই অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে প্রয়োজন হলে সেই পর্যায়ে কাজে লাগানোর চিন্তা ছিল তার।
আনচেলত্তি বলেন, নির্ধারিত সময় ও যোগ করা সময়ের মধ্যেই ব্রাজিল জয় নিশ্চিত করায় আর নেইমারকে মাঠে নামানোর প্রয়োজন পড়েনি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে ব্যবহার করার সুযোগও তৈরি হয়নি।
দীর্ঘ সময় চোটে থাকার পর বিশ্বকাপ দিয়েই প্রায় তিন বছর পর ব্রাজিল দলে ফিরেছেন নেইমার। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে প্রায় ১৫ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। অল্প সময় মাঠে থেকেও তিনটি গোলের সুযোগ তৈরি করে নিজের ফিটনেস ও কার্যকারিতার ইঙ্গিত দেন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিল কোচ আরও জানিয়েছেন, নেইমারের শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ফিট। ফলে বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ নরওয়ে অথবা আইভরি কোস্ট।