
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দলের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৭টার দিকে সিলেটের এয়ারপোর্ট এলাকার একটি অভিজাত হোটেলে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, বরাবরের মতো এবারও সিলেট থেকেই বিএনপির নির্বাচনী যাত্রা শুরু হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, “দুয়েকদিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে দলের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে। এই দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে সিলেট থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।”
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই নির্বাচন জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। অনেক বছর পর জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, ফলে মানুষের মধ্যে ভোট দিতে আগ্রহ ও উৎসাহ রয়েছে।”
নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে শঙ্কার কথা থাকলেও বিএনপি আশঙ্কা করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রথম থেকেই বিএনপি নির্বাচন চেয়েছে। নির্বাচন তার নিজস্ব পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
মব সহিংসতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “মবোক্রেসি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”
তিনি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন বেগম খালেদা জিয়া।” একই সঙ্গে তিনি যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজ যে সুযোগ এসেছে, সেটিকে কাজে লাগাতে হবে। গণতন্ত্র এক দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিও এক দিনে গড়ে ওঠে না।”
মির্জা ফখরুল একটি গণতান্ত্রিক সংসদ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর আগে রোববার বিকেলে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে সিলেট পৌঁছে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।