
জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নির্বাচনের মাঠে আনার উদ্যোগকে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে দেখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, এ বিষয়টি তারা কোনোভাবেই সরল দৃষ্টিতে দেখছেন না; বরং এর পেছনে রাজনৈতিক কৌশল ও ‘এজেন্সির খেলা’ রয়েছে বলে তাদের ধারণা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিয়ে আসা মানে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া। এটি একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া, যা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়; বরং একটি নির্বাচনি সমঝোতা মাত্র। তাঁর ভাষায়, ‘জামায়াতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আদর্শিক নয়। নির্বাচনের বাস্তবতায় আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, এবং সেটি শুধুই নির্বাচনের জন্য।’
তিনি আরও জানান, জোটের আসন বণ্টন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ‘আমরা আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই আসন বিন্যাসের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারব। তখন আপনারা জানতে পারবেন, কতটি আসনে শাপলা কলি প্রতীক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে,’ বলেন আখতার হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জোট বা নির্বাচনি সমঝোতা থাকলেও এনসিপি তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ ও কর্মসূচির ভিত্তিতেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। দলটির নীতিগত অবস্থান থেকে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা নেতাদের প্রসঙ্গে আবেগঘন মন্তব্য করেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার যেসব সহযোদ্ধা দল ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের এই সিদ্ধান্ত আমাদের ব্যক্তিগত অনুভূতিকে আহত করেছে। এটা আমাদের আবেগে প্রভাব ফেলেছে।’ তবে দলীয় রাজনীতির বাস্তবতায় এসব ঘটনা ঘটে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন, জোট এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনীতিকে ঘিরে যে বিতর্ক চলছে, এনসিপির এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী অংশগ্রহণ এবং তা নিয়ে বড় দলগুলোর কৌশলগত অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে।