
আইপিএলের আসন্ন আসরের জন্য বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবং ভারতের উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তাকে দলে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ক্রিকেটার, ক্রীড়া সংগঠক এবং সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নানা বার্তা দিতে থাকেন। অনেকেই একে খেলাধুলার রাজনীতিকরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে মুস্তাফিজুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এই ঘটনায় হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং খেলাধুলাকে রাজনৈতিক চাপের বাইরে রাখার আহ্বান জানান।
তাবিথ আউয়াল তার স্ট্যাটাসে বলেন, কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের দলে মুস্তাফিজুর রহমানকে নির্বাচন করার পর কেবল রাজনৈতিক চাপের কারণে তাকে আইপিএল ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর জেনে তিনি অত্যন্ত হতাশ। তিনি উল্লেখ করেন, মুস্তাফিজ একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার, যিনি নিজের দক্ষতা ও পারফরম্যান্স দিয়েই আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছিলেন।
বাফুফে সভাপতি বলেন, শুধু জাতীয়তার কারণে একজন খেলোয়াড়কে লক্ষ্যবস্তু করা চরম অবিচার এবং অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ। ক্রিকেটের মতো একটি ভদ্রতার খেলায় এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তাবিথ আউয়াল তার বক্তব্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)-এর প্রতি আহ্বান জানান, যেন খেলাধুলাকে রাজনীতিকরণ করা বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, খেলাধুলার শক্তি বিভেদ ভুলে মানুষকে একত্রিত করার। সেটিকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মান তৈরির মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে মুস্তাফিজুর রহমানের প্রতি সরাসরি সমর্থন জানিয়ে তাবিথ আউয়াল লেখেন, “শক্ত থাকো মুস্তাফিজ। পুরো জাতি আজ তোমার পাশে আছে।” তার এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ক্রীড়াপ্রেমী এতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মুস্তাফিজ ইস্যুতে বাফুফে সভাপতির এই অবস্থান ক্রীড়াঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন ফুটবল সংগঠকের এমন স্পষ্ট অবস্থান খেলাধুলাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবিকে আরও জোরালো করেছে।