
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসান জামিন পেয়েছেন। রোববার সকালে তাকে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহদী হাসানকে আদালতে আনা হয়। সকাল ১০টার দিকে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং শুনানি শেষে আদালত তাকে জামিন দেন।
পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যার দিকে মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে হবিগঞ্জে উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন।
নেতাকর্মীরা রাতেই আদালত বসিয়ে মাহদী হাসানের জামিন শুনানির দাবি জানান। তবে রাতে আদালত না বসায় তাকে থানায় রাখা হয় এবং রোববার সকালে আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, এনামুল হাসান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এনামুল হাসানকে আটকের পর তার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা শায়েস্তাগঞ্জ থানা ঘেরাও করেন। ওই কর্মসূচিতে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী থানায় প্রবেশ করে ওসির কক্ষে অবস্থান নেন বলে জানায় পুলিশ।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্বস্তি ফিরে আসে। তবে পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।