
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনার পর তার নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি, যার প্রতিফলন হিসেবে তার প্রতি মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে।
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুরে শ্রীশ্রী পাগল মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, বহিষ্কারের পর তিনি নিজেকে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষায়, তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে থেকে সাধারণ মানুষের সমর্থনকে মূল শক্তি হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি বলেন, “বহিষ্কারের ঘটনাটি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। হয়তো সেই কারণেই আমার প্রতি সমর্থন বেড়েছে। আমি নিজেকে কোনো দলের প্রার্থী মনে করি না। আলহামদুলিল্লাহ, নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী।”
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, জয়-পরাজয়ের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের সমর্থন থাকলেও ফলাফল আল্লাহর ইচ্ছাতেই নির্ধারিত হয়।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা বহিষ্কারের সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আমি জানি না এর পেছনের রহস্য কী। হয়তো মানুষ আঘাত পেয়েছে। যেদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন, তার লাশ দাফনের আগেই যখন নয়জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো, তখন অনেকেই বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি।”
তার এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই নীরবে সমর্থন জানান। আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানার বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনাও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আতাউর রহমান বাবুল, নাসির উদ্দিন মুন্সি, রাসেল বিপ্লব, হেলাল মিয়াসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলীয় বহিষ্কার সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজের অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তার জনসমর্থন সংক্রান্ত এই দাবি আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।