ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসটি নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও ভাইরাল পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই মাসে প্রতিটি দিন—রবিবার থেকে শনিবার—চারবার করে থাকবে, যা নাকি অত্যন্ত বিরল বা শত শত বছরে একবার ঘটে। বাস্তবে বিষয়টি শুনতে যতটা রহস্যময় বা ব্যতিক্রম মনে হয়, আদতে এটি ক্যালেন্ডারের খুবই সাধারণ একটি গাণিতিক ও নিয়মভিত্তিক ঘটনা।
প্রথমেই ফেব্রুয়ারি মাসের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া দরকার। সাধারণ বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে থাকে ২৮ দিন এবং লিপ ইয়ার হলে থাকে ২৯ দিন। ২০২৬ সাল লিপ ইয়ার নয়, ফলে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একটি ২৮ দিনের সাধারণ মাস। এখানেই মূল বিষয়টি লুকিয়ে আছে।
একটি সপ্তাহে মোট সাত দিন—রবিবার, সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার। এখন যদি কোনো মাসে মোট দিনসংখ্যা হয় ২৮, তাহলে সেটি ঠিক চারটি পূর্ণ সপ্তাহের সমান (৭ × ৪ = ২৮)। এর অর্থ হলো, মাসটির প্রথম দিন যেদিন পড়বে, সেই দিনসহ সপ্তাহের প্রতিটি দিন চারবার করে আসবে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ পড়েছে রবিবারে। ফলে প্রথম সপ্তাহ শুরু হচ্ছে রবিবার দিয়ে এবং চারটি পূর্ণ সপ্তাহ শেষ হচ্ছে শনিবারে। এর ফলে রবিবার থেকে শনিবার—প্রতিটি দিনই মাসটিতে ঠিক চারবার করে রয়েছে। এতে অতিরিক্ত কোনো দিন নেই, আবার কোনো দিন কমও নেই।
এই কারণেই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দেখতে “পরিপাটি” বা ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়। তবে এটি কোনো জাদুকরী ঘটনা নয়, বরং ক্যালেন্ডারের স্বাভাবিক নিয়মের ফল। এমন পরিস্থিতি তখনই তৈরি হয়, যখন তিনটি শর্ত পূরণ হয়—
প্রথমত, ফেব্রুয়ারি মাসটি ২৮ দিনের হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সেটি লিপ ইয়ার হওয়া যাবে না।
তৃতীয়ত, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনটি রবিবারে পড়তে হবে।
এই তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হলেই এমন একটি ফেব্রুয়ারি দেখা যায়। তাই অনেকেই যে দাবি করেন, এমন মাস নাকি ৮২৩ বছরে একবার বা হাজার বছরে একবার আসে—সেটা সঠিক নয়। বাস্তবে এই প্যাটার্ন আমাদের জীবনে একাধিকবার দেখা যায়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালেও ঠিক একই প্যাটার্ন ছিল। সে বছরও ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিটি দিন চারবার করে পড়েছিল। ভবিষ্যতেও আবার এমন হবে—যেমন ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর পর ফেব্রুয়ারি ২০৩৭ সালেও একই ধরনের ক্যালেন্ডার বিন্যাস দেখা যাবে। অর্থাৎ এটি খুব ঘনঘন না হলেও একেবারে বিরল কোনো ঘটনা নয়।
তাহলে বিভ্রান্তি কেন ছড়ায়? এর প্রধান কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরঞ্জিত পোস্ট ও বার্তা। অনেক সময় ক্যালেন্ডারের সাধারণ প্যাটার্নকে “অলৌকিক”, “দুর্লভ” বা “ঐতিহাসিক” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে মানুষ সহজেই আকৃষ্ট হয়। বাস্তবে ক্যালেন্ডার গণিত, সপ্তাহের দিন এবং লিপ ইয়ার নিয়ম বোঝা থাকলে এই ধরনের বিষয় সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়।
তবুও ফেব্রুয়ারি ২০২৬ একেবারে সাধারণ বলেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এমন একটি মাস, যেখানে প্রতিটি সপ্তাহ সমান এবং পুরো ক্যালেন্ডারটি নিখুঁতভাবে সাজানো থাকে, তা অনেকের কাছেই দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় মনে হয়। বিশেষ করে যারা পরিকল্পনা করতে ভালোবাসেন বা ক্যালেন্ডার পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের কাছে এই ধরনের মাস আলাদা আনন্দ এনে দেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ কোনো রহস্য নয়, কোনো গুজবও নয়। এটি কেবল ক্যালেন্ডারের নিয়মে তৈরি হওয়া একটি সুন্দর ও সুষম মাস।
