
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নীরব ব্যবধান পেরিয়ে অবশেষে নিজ জন্মভূমি বগুড়ার পথে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সময়ের দীর্ঘ স্রোতে যে মাটি থেকে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের সূচনা, সেই বগুড়ায় ফিরে আসার মধ্য দিয়েই ঢাকার বাইরে তার প্রথম রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সফরের সূচনা হতে যাচ্ছে। সফর শেষে তিনি রংপুরে যাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আগামী ১১ জানুয়ারি তারেক রহমান বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেদিন রাতটি কাটাবেন নিজের জেলার মাটিতে। পরদিন ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সকাল ১০টায় তিনি শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক হৃদয়স্পর্শী গণদোয়ায় অংশ নেবেন। এই দোয়া মাহফিল উৎসর্গ করা হয়েছে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায়—যা বগুড়ার মানুষের আবেগের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর ১৮ দিন পর তারেক রহমানের বগুড়ায় আগমন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি বগুড়াবাসীর জন্য এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন। তার ভাষায়, “ইনশাআল্লাহ বহু প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। তারেক রহমান আমাদের গর্বের সন্তান। তার আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের হৃদয়ে নতুন করে আশার আলো জ্বলছে।”
গণদোয়া শেষে তারেক রহমান বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। পথিমধ্যে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানে অবস্থিত হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখী (র.)-এর মাজার শরিফ জিয়ারত করবেন। শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব কালবেলা জানান, এ সময় বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলমের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানাবেন। জিয়ারত শেষে শিবগঞ্জের শেষ সীমানা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা তাকে বিদায় জানাবেন—ভক্তি, ভালোবাসা আর প্রত্যাশার আবরণে।
উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার দাখিল করা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান সেটিকে বৈধ ঘোষণা করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় তারেক রহমানের মনোনয়নপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ সময় পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই সফর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা, আশাবাদ ও রাজনৈতিক গতিশীলতা সৃষ্টি করবে—এমন প্রত্যাশাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।