
সুন্দরবন সংলগ্ন একটি পর্যটন এলাকা থেকে দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। শুক্রবার বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন কেনুয়ার খালের মুখ থেকে তাদের জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সুন্দরবন ইকো রিসোর্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রেজোয়ান উল হক মিঠু জানান, ঢাকা থেকে আসা কয়েকজন পর্যটক শুক্রবার দুপুরে ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত ‘গোলকানন’ রিসোর্টে ওঠেন। বিকেলে রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ মোট সাতজন নৌকাযোগে সুন্দরবনের কেনুয়ার খালে ঘুরতে যান।
সন্ধ্যার কিছু আগে নৌকাটি রিসোর্টে ফেরার পথে বনদস্যুরা অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় নৌকায় থাকা তিনজনকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় তারা। বাকি চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অপহৃত ব্যক্তিরা হলেন—গোলকানন রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং পর্যটক মো. সোহেল ও মো. জনি। শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত তিনজনই বনদস্যুদের কব্জায় রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রেজোয়ান উল হক।
তিনি আরও জানান, অপহৃতদের মুক্তির জন্য বনদস্যুরা মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে। তবে মুক্তিপণের পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত তৎপরতা শুরু হয়েছে। বনবিভাগের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী বলেন, অপহরণের বিষয়টি তারা শুনেছেন, তবে এখনো নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট দস্যু বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়নি।
খুলনার দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, অপহৃত রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধারে থানা পুলিশ, নৌপুলিশ এবং কোস্টগার্ড যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুন্দরবনে পর্যটন মৌসুমে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত উদ্ধার ও দস্যু দমনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।