
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। তবে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংবেদনশীলতার কারণে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি দলটি। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর থেকেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তারেক রহমান। দলের গঠনতন্ত্রের ৭(গ) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বাকি মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে বহাল থাকবেন। এ বিধানের ফলে আলাদা কোনো নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন নেই।
দলীয় সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সবাই এখনো শোকাহত। রাষ্ট্রীয় তিন দিনের শোক শেষ হলেও বিএনপির ঘোষিত সাত দিনের শোককাল এখনো শেষ হয়নি, যা আগামী ৫ জানুয়ারি শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া সমীচীন মনে করেননি নীতিনির্ধারকেরা। তবে সামনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট থাকায় বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার আগেই বিএনপির বহু প্রার্থী ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ডিজিটাল পোস্টার প্রস্তুত করেছেন, যেখানে দলের চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর এই বিষয়টি নতুন করে জটিলতা তৈরি করেছে।
নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা-২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবলমাত্র বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি প্রচার সামগ্রীতে ব্যবহার করতে পারবেন। এই বাস্তবতায় বিএনপির প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে কার ছবি থাকবে—সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেওয়া হবে। শিগগিরই কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বসবে দলটি।
নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ইতোমধ্যেই চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে রাজনৈতিক কৌশল ও আবেগের বিষয় বিবেচনায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শোককাল শেষ হওয়ার পর দেওয়া হবে। শোক সপ্তাহ শেষ করেই বিএনপি পুরোদমে নির্বাচনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিসহ সাংগঠনিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় ৪১ বছর চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।