
ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে ‘বেপরোয়া ও উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে ইরান। তেহরানের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্য জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) সভাপতির কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল এবং তা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যদি গুলি চালানো হয় বা সহিংসভাবে দমন করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘উদ্ধারে’ এগিয়ে আসতে প্রস্তুত থাকবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য দ্রুতই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।
ট্রাম্পের ওই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতিসংঘে চিঠি পাঠান ইরানের রাষ্ট্রদূত ইরাভানি। চিঠিতে তিনি এসব মন্তব্যকে ‘অবৈধ হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা।
ইরাভানি তার চিঠিতে আরও বলেন, কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বহিঃচাপ সৃষ্টি, সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়া বা তা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব কর্মকাণ্ড ইরানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিটির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো এবং জাতিসংঘকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ইতোমধ্যে উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিব এ বিষয়ে কী অবস্থান নেন, সে দিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।