
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাছাইয়ের প্রথম তিন দিনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মোট নয়জন প্রার্থীসহ সারা দেশে ৪১১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও প্রার্থীদের একটি বড় অংশ নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইসি সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির তিনজন এবং জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন রয়েছেন। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের, যাদের বড় অংশের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে অসংগতি পাওয়া গেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ৭৪ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায় ৩৩৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারার প্রার্থিতাও বাতিল হয়েছে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইয়ে গরমিলের কারণে।
ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের একজন শরীয়তপুর থেকে ঢাকা-৯ আসনে স্থানান্তরিত হলেও ইসির তালিকায় তথ্য হালনাগাদ হয়নি। আরেকজন ভোটারের ঠিকানা একই এলাকায় হলেও ভোটার তালিকায় ভিন্ন আসনে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
মনোনয়ন বাতিল নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। জামায়াতের অভিযোগ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থিতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়নি। যারা মনোনয়ন হারিয়েছেন, তারা আপিলে যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারলে প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। কোনো কর্মকর্তা আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিএনপির তিন প্রার্থীর মধ্যে ময়মনসিংহ-৬ আসনের ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ায়। শেরপুর-২ আসনে ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি সংযুক্ত না থাকায়। যশোর-৪ আসনে ঋণখেলাপির কারণে টি এস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
জামায়াতের ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের কারণ হিসেবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক হওয়া, ঋণখেলাপি, হলফনামায় অসম্পূর্ণ তথ্য এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিপির দুটি আসনের প্রার্থীর মনোনয়নও স্থগিত হয়েছে দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ সংক্রান্ত তথ্য না থাকায়।
ইসি জানিয়েছে, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী সোমবার থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত কমিশনে আপিল করতে পারবেন। আপিলেও ব্যর্থ হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ দিন আজ রোববার। শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান, সে দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনের।