বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই শিল্পায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে বিজিএমইএ (BGMEA) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে।
বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনের সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, ভিদিয়া অমৃত খান, মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীসহ অন্যান্য পরিচালকরা অংশ নেন। অন্যদিকে ওকাইবের প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই সি-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে উপস্থিত ছিল।
বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা, রুগ্ণ ও বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ, যৌথ মালিকানায় ব্যবসা পরিচালনা এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উভয়পক্ষের মতে, বিদেশি মূলধন ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতার সমন্বয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়াবে।
এছাড়া ব্যবসা পরিচালনায় কাস্টমস ও বন্ড সংক্রান্ত জটিলতা দূর, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু এবং যন্ত্রপাতি আমদানি ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ওকাইবের প্রতিনিধিরা বলেন, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো গেলে বিদেশি বিনিয়োগের গতি আরও বাড়বে।
সভায় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের অংশ হিসেবে সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং কার্বন ট্রেডিংয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ওকাইব সোয়েটার শিল্পের আধুনিকায়নের জন্য পুরোনো জ্যাকর্ড মেশিনের পরিবর্তে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নতুন মেশিন সরবরাহের একটি বিশেষ বিনিময় নীতির প্রস্তাব দেয়। বিজিএমইএ নেতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার আশ্বাস দেন। তারা জানান, চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক, টেকসই ও বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক